9.1 C
New York
Sunday, April 18, 2021

ধারাবাহিক গল্পঃ সিনিয়র বউ (পর্ব-১৬)

ছাদে বসে বসে জারার কথা গুলো ভাবছি আর কখন ঘুমিয়ে গেছি ঠিক মনে করতে পারছিনা। সকালে ফজরের আজান শুনে ঘুম বাঙ্গলো দেখি ছাদে বেঞ্চের উপর শুয়ে আছি। উঠে রুমে এসে ফ্রেস হয়ে নামাজ পরতে গেলাম। নামাজ পড়ে এসে রুমে আবার ঘুম। আম্মুর ডাকে ঘুম থেকে উঠলাম,,

আম্মু: রিয়াদ তুই মেডিকেল যাবি কখন? জারার আব্বুকে বাসায় নিয়ে যাবি কখন,,? আমি: হ্যা যাচ্ছি,, বলে নিচে আসলাম। অনিকাকে কোথাও দেখছিনা। যাক তাহলে আপদ বিদায় হয়ছে। মনে মনে কথা গুলো বলছি তখনি,,

আব্বু: রিয়াদ তুই মেডিকেল যাবি কখন,,? আমি: নাস্তা করে রওনা দিব,, আব্বু: ঠিক আছে আর একদিন ঐখানে থেকে বউমাকে নিয়া আগামিকাল বাসায় আসবি,, আমি: আচ্ছা ঠিক আছে,,,।

নাস্তা করে ফ্রে সহয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে আসলাম তবে মেডিকেল যাওয়া যাবেনা। কারন জারা আমাকে অনুরোধ করছে ওরদ সামনে না যেতে। তবে একটু যাই, আড়াল থেকে দেখবো। আমি ৩০ মিনিট পরে মেডিকেল গেলাম। রাস্তায় দাড়িয়ে আছি, তখনি দেখি জারা আর আংকেল দুজনে মেডিকেল থেকে বের হচ্ছে। যাক আব্বু জিগ্যাসা করলে বলতে পারব,, তখনি দেখি দোস্ত সোহেল,,

সোহেল: কিরে রিয়াদ জারা আপু কি হয়ছে ওনি ঠিক আছে ত,,? আমি: সালা তোর ভাবি লাগে আপু বলিস কেন,,? সোহেল: তাহলে তুই এই বিয়েটা মেনে নিবি,,? আমি: তুইত কাল বলছিস জারা অনেক ভাল মেয়ে। আমি ওর সাথে অনেক সুখে থাকব আর এখন এই কথা জিগ্যাসা করছিস কেন,,? তবে জারা আমাকে এখন আর ভালোবাসে না,,।

সোহেল: কি বলিস তুই,,কিন্ত কেন,,? আমি: হ্যা ওর আব্বু স্টোক করছে তার জন্য আমাকে দায় করে,,। সোহেল: কিন্ত কেন একটু খুলে বল,, আমি: তাহলে শুন বলছি সবকিছু সোহেলকে বললাম,,। সোহেল: অকে আমরা যা করব কাল কলেজে করব। তবে আজ সারাটা দিন একটু ঘুরা ঘুরি করে কাটিয়ে দে,,। আমি: ওকে দুস্ত,, বলে চলে আসলাম। সারাদিন এখানে ঐখানে কাটিয়ে রাতে বাসায় গেলাম তখনি,,

আম্মু: কিরে তুইনা আজ জারাদের বাড়ীতে থাকার কথা কিন্ত চলে আসলি কেন,,? আমি: জারা ওর আব্বুকে দেখাশুনার জন্য আরো কয়দিন থাকবে তাই আমি চলে আসছি। রাতের খাবার খেয়ে ঘুম দিলাম আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে হাল্কা নাস্তা করে কলেজে গেলাম আর কলেজে গিয়ে আমার মেজাজ ৪২০ হয়ে গেছে। জারার পোস্টার সারা কলেজ লাগিয়ে দিয়ে আর বড় বড় করে লিখে দিয়েছে জারা এবং সাগরের মধ্যে গভীর ভালোবাসা চলছে,,,

সোহেলকে জিগাস্যা করি,,, আমি: এই সোহেল সাগরটা আবার কেরে,,? সোহেল: তোর মনে আছে ঐদিন জারাকে একটা ছেলে হাটু গেরে ফুলের তোড়া দিয়েছিল ঐ ছেলেটা হচ্ছে সাগর,,,। আমি: চলত দেখি কই আছে। আমি আর সোহেল দুজনে খোজে বের করলাম। সাগর রাস্তায় দারিয়ে আছে ফুলের তোড়া নিয়ে। আমি
কাছে গিয়ে হাত থেকে ফুলের তোড়াটা নিয়ে নে,ই আর তখনি সাগর আমাকে ধা’ক্কা মা’রে আমি পেছনে পড়ে যেতেছি তখনি জারা সামনে চলে আসে আমি জারাকে জড়িয়ে ধরে মাটিতে পড়ে গেলাম। নিচে জারা আমি উপরে জারা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আর আমিও। তখনি সাগর আমাকে টেনে তুলে ফেলে তারপর আমার আর সাগরের মাঝে হাতাহাতি হয় তা দেখে জারা চলে যায় তারপর আমাকে সাগরকে আর জারাকে পিন্সিপল স্যার তার রুমে ডেকে নিয়ে গেছে,,।

পিন্সিপল: সাগর কি হয়ছে বল,,? সাগর: স্যার রিয়াদ আমার ফুলের তোড়া নিয়ে গেছে,, তাই আমি ওর সাথে ঝগড়া করছি,, পিন্সিপল: রিয়াদ তুমি সাগরের ফুলের তোড়া ধরছোদ কেন,,? আর সাগর তোমার সিনিয়র বড় ভাই, তুমি কি জাননা নাকি,,? আমি: জানি স্যার,, তবে ওনি আমার ওয়াইফকে বিরক্ত করে ফুলের তোড়া দিয়ে, তাই আমি এমনটা করছি,,। পিন্সিপল: রিয়াদ তুমি বিয়ে করছো কবে আর তোমার ওয়াইফ কে,,?

আমি: আমার ওয়াইফ জারা,, পিন্সিপল: কি বললে তুমি জারা তোমার ওয়াইফ কিন্ত জারা ত তোমার সিনিয়র,, আমি: বিশ্বাস না হলে জারাকে জিগাস্যা করে দেখুন তাহলে সব জানতে পারবেন,। পিন্সিপল: জারা রিয়াদ যা বলছে সবকিছু সত্যি বলছে,,? জারা: স্যার রিয়াদ সব মিথ্যাকথা বলছে আমি রিয়াদকে চিনিনা আজ প্রথম দেখলাম,,,,।

পিন্সিপল: রিয়াদ জারাত বলছে তুমাকে চিনেনা তাহলে তুমি মিথ্যা কথা বলছো কেন? কলেজে আসছো কি মারামারি করতে? আজকের মত মাফ করে দিলাম ফের যদি আর কোনদিন কলেজে মারামারি কর তাহলে টিসি দিয়ে দেব কথাটা মনে রেখ আর সাগর তুমি কথাগুলো মনে রাখবে যাও এখন সবাই,, আমি আগে বেরিয়ে আসলাম জারাকে জিগাস্যা করতে হবেকেন এমন করছে তাই দাড়িয়ে আছি তখন দেখলাম জারা আর সাগর দুজনে হাসতে হাসতে আসতেছে একসাথে,,,,। আমি নিজের চোখকগুলোকে বিশ্বাস করাতে পারছিনা। আমি কি দেখতেছি তাহলে জারা কি আমার সাথে এতদিন অভিনয় করছে এই কথাটা জারাকে জিগাস্যা করতে হবে। (চলবে)

Related Articles

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Stay Connected

21,790ভক্তমত
2,739অনুগামিবৃন্দঅনুসরণ করা
0গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব

Latest Articles