23 C
New York
Monday, July 26, 2021

জেনে নিন, গ্যাস্ট্রিক আলসার রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

বর্তমানে মানুষ অতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে খাওয়ায় অনিয়ম। আর এ অনিয়মের সঙ্গে আপনার সঙ্গী হয়েছে গ্যাস্ট্রিক-আলসারের মতো কিছু রোগ।

বর্তমান সময়ে পেটের যে রোগটিতে বেশিরভাগ মানুষ ভু’গে থাকেন তা হল আলসার। পেটের ভিতর ক্ষ’ত বা ঘা হওয়াকে আলসার বলা হয়ে থাকে। আলসারকে সাধারণ রোগ ভাবার কোন সুযোগ নেই। শুরুতে সঠিক চিকিৎসা নিলে আলসার সহজে ভাল হয়ে যায়, অন্যথায় মা’রাত্ম’ক সমস্যা দেখা দিতে পারে। আলসার হয়ে উঠতে পারে জীবনঘা’তি।

বুক জ্বালাপোড়া: আলসারের প্রথম এবং শুরুর লক্ষণ হল বুক জ্বালাপোড়া করা। মশলাদার খাবার বা তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার পর বুক ও পেটের সংযোগস্থলে জ্বালাপোড়া করে। তার সাথে সাথে টক ঢেঁকুর আসা। এটি আলসারের প্রথম ও প্রাথমিক লক্ষণ।

অস্বাভাবিক পেট ব্যথা: নাভির ডান বা বাম পাশে অল্প একটু জায়গায় চিন চিন ব্যথা অনুভূত হওয়া। অনেক সময় পেটের কোথাও ব্যথা অনুভূত না হয়ে বুকের মাঝখানে চাপ চাপ ব্যথা হওয়া এবং অস্বস্তি বোধ করা। আবার অনেক সময় এই ব্যথা পিঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। অ্যাসিড রিফ্ল্যাক্সের ফলে এই ব্যথা হয়ে থাকে। কখন কখনও এই রকম পেটে ব্য’থার কারণে রাতে ঘুম থেকে উঠে বসে থাকতে পারে রোগী।

র’ক্তবমি: অনেক সময় আলসারের রোগীর র’ক্তবমি হতে পারে। তবে বমির সাথে টাটকা রক্ত বের হবে না। বমি ও রক্ত মিশে খয়েরি রংয়ের বমি হতে পারে। যদি এমন হয় তবে বুঝতে হবে আলসার অনেক মারাত্নক পর্যায়ে চলে গেছে। অতিসত্বর চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

পেট ফাঁপা ও বায়ু ত্যাগ: কোন কিছু না খেয়েই পেট ভরা মনে হবে। পেটের গ্যাসের কারণে পেট ভরা মনে হয়ে থাকে। খাবারের পর পর বা যেকোন সময় অস্বস্তির সাথে পেট ফাঁপা অনুভূত হবে। কিছুক্ষণ পর পর বায়ু ত্যাগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

খাবারের অরুচি: আলসারের রোগীর খাওয়ার প্রতি আগ্রহ কমে যায়। খাবারে অরুচি দেখা দেয়। পরিমাণমত খাবার না খাওয়ায় শরীর হয়ে পড়ে দুর্বল। এর কারণে রক্ত স্বল্পতা, গা ম্যাজ ম্যাজ করা, অল্প কাজে ক্লান্ত বোধ করার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ওজন কমে যাওয়া: খাবার কম খাওয়ায় দিন দিন রোগীর ওজন কমতে থাকতে। হজমের গোলমালের কারণে এই সমস্যাটা হয়ে থাকে। কালো পা’য়খানা: আলসার যখন মা’রাত্ন’ক আকার ধারণ করে তখন পেটের ভিতর র’ক্তক্ষরণের কারণে রোগীর ঘন, আঠালো এবং কালচে রংয়ের পা’য়খানা হতে পারে। এইরকম লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রতিকারের উপায়ঃ পেপটিক আলসার ডিজিজ বা গ্যাস্ট্রিক আলসার জটিল কোনো রোগ নয়। ডাক্তারি পরামর্শ মোতাবেক ওষুধ সেবন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে সহজেই এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন, এই রোগ থেকে প্রতিকারের সহজ কিছু উপায় জেনে নিই

১. ভাজাপোড়া ও মসলাযুক্ত খাবার কম খাওয়া। ২. ধূ’মপান ও অ্যা’লকোহল গ্রহণ বর্জন করা। ৩. ক্যাফেইনযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা। ৪. অ্যাসপিরিন ও ব্যথানা’শ’ক ওষুধ এড়িয়ে চলা। এই ওষুধগুলোর কারণে আলসারের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। ৫. ভিটামিন এ, সি ও ই-যুক্ত ফলমূল ও শাকসবজি বেশি পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করা। এই ভিটামিনগুলো আলসারের ঘা শুকাতে সাহায্য করে। ৬. ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও কোমলপানীয় এড়িয়ে চলা। ৭. প্রয়োজনমাফিক বিশুদ্ধ পানি পান করা।

চিকিৎসাঃ আলসারের সমস্যা হলে নিজে নিজে চিকিৎসা গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে, আলসারের কারণে অন্ত্র বা পাকস্থলীতে র’ক্তক্ষরণ হতে পারে এবং পা’য়খানার সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। অনেক সময় অন্ত্র বা পাকস্থলীতে ফুটো হয়ে যেতে পারে। তাই অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ওষুধ গ্রহণ করুন।

Related Articles

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Stay Connected

21,984ভক্তমত
2,870অনুগামিবৃন্দঅনুসরণ করা
0গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব

Latest Articles